ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীনে। শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে ৩৮.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২২ সালের জুলাই মাসের পর দেশটির সর্বনিম্ন তেল আমদানির রেকর্ড। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়াকেই এই ধসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ও চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা চীন তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও পরিশোধিত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, সমুদ্রপথে চীনের তেল আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক মাত্র ৮.০৩ মিলিয়ন ব্যারেল। শুধু তেলই নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিও ১৩ শতাংশ কমে ৮.৪২ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে, যা চীনের শিল্পোৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব বর্তমানে যখন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ের সাথে কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন চীনের এই জ্বালানি ঘাটতি বাংলাদেশের বড় বড় চীনা উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। গতকালই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে এবং আজ পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছেন। এমন এক অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের এই আমদানি হ্রাস বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।



















