দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এখন একটি ভয়াবহ ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তালেবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা হামলা চালায়। এর জবাবে আফগান বাহিনীও বিমান বিধ্বংসী কামানের সাহায্যে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত ‘ডুরান্ড লাইন’, যা আফগানিস্তান কখনোই বৈধ সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। গত কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দাবি করেছে। পাকিস্তান যেখানে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহতের দাবি করছে, সেখানে তালেবান সরকার দাবি করেছে তারা ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট দখল এবং ৫৫ জন সেনাকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; জাতিসংঘ মহাসচিব এবং প্রতিবেশী দেশগুলো অবিলম্বে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















