ড. ইউনূসের আমলে দারিদ্র্য বিমোচনের সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, এই সময়ে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আবদুল বায়েসের মতে, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ শতাংশ থেকে কমে ২২.৪৮ শতাংশে নামা এবং এডিপি বাস্তবায়ন গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোকে অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাত ও ঋণের বোঝা ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৪৫ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এটি বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার সময় নির্বাচিত সরকারের জন্য ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে গত ছয় মাসেই বড় অঙ্কের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়েও নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি (৮.৫%) মজুরি বৃদ্ধির হারকে (৮.১%) ছাড়িয়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ড. লুবনা তুরীনের মতো গবেষকদের মতে, রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও তা করা হয়েছে আমদানি সংকুচিত করে এবং শিল্প খাতকে চাপে ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। রিজার্ভকে লক্ষ্য হিসেবে না দেখে বরং কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রধান্য দেওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অবাধ নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তার সরকারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা দ্রুত খারিজ হওয়া এবং সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ বা মব কালচার দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্বের প্রবক্তা হয়েও নিজের শাসনামলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।



















