চব্বিশের জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে এটি প্রথম রায় হতে যাচ্ছে। আলোচিত এই মামলায় আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, যার ফলে দেশ-বিদেশের নজর আজ ট্রাইব্যুনালের দিকে।
মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি। হাসিনা ও কামাল পলাতক অবস্থায় ভারতে রয়েছেন। অপরদিকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রায় দেবেন। যুক্তিতর্ক শেষে ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়, এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন রায় ঘোষণার অংশ সরাসরি সম্প্রচার করবে।
জুলাই–আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষ নিহত ও ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, পদ্ধতিগত গণহত্যা, উসকানি, সহায়তা ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী এ রায় ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কারণ এটি জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর প্রথম রায় হতে যাচ্ছে।



















