ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও পথসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিস্তব্ধ সময়ে যদি কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ গোপনে প্রচারণা চালায় কিংবা ভোটারদের মধ্যে টাকা বা কোনো প্রকার উপঢৌকন বিতরণ করে, তবে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমন অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধির ৪(১) উপবিধি অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাউকে অনুদান প্রদান বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। যদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই বিধিমালা লঙ্ঘন করে, তবে তাদের ওপর ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী এজেন্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে কমিশনের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। দি রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৯১ই ধারা অনুযায়ী কমিশন এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতে ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটির বিচারকরা মাঠে নেমেছেন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জাল জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।



















