লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত, আর কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দিলে গুনাহ হবে।’ ভিডিওটি কমলনগরের একটি স্থানীয় গণসংযোগের সময় ধারণ করা বলে জানা গেছে। হাফিজ উল্যাহ বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিডিওতে হাফিজ উল্যাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ইসলামের পক্ষে ও কোরআনের পক্ষে থাকতে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে সওয়াব ও জান্নাত নিশ্চিত হবে। বিপরীতে অন্য কাউকে ভোট দেওয়াকে তিনি ‘কোরআনের বিরুদ্ধে যাওয়া’ এবং ‘গুনাহের কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ ছাড়াও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মতো অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাফিজ উল্যাহ দাবি করেছেন, তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ কাটছাঁট করে বিকৃতভাবে এটি প্রচার করা হচ্ছে এবং তিনি এমন বিতর্কিত বক্তব্য দেননি।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধি অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া বা প্রতিপক্ষকে ধর্মীয়ভাবে হেয় করা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিমধ্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ জানিয়েছে এবং কমিশনও ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এই ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















