আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ও নবীন সদস্যদের একটি সুষম সমন্বয় করা হয়েছে যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে এবার প্রশিক্ষণের বয়সসীমা ১৮ থেকে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অভিযোজন ক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে এবার নজিরবিহীনভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। বাহিনীর নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে সদস্যদের মোতায়েন ও সরাসরি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা তাঁদের বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ১৩ জন আনসার সদস্যের মধ্যে ২ জনকে বিশেষভাবে এই অ্যাপ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর তাৎক্ষণিক টহল দলের কাছে পৌঁছে যায়।
বাহিনীর প্রস্তুতি অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সদস্যকে নিবিড় মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যাতে তাঁরা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ‘প্রথম প্রতিরোধ শক্তি’ হিসেবে কাজ করতে পারেন। ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা কার্যক্রম সচল রাখতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনসার ও ভিডিপি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন উপহার দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।



















