নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। রবিবার সকাল ৮টা থেকে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করায় জেটিগুলোতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে থমকে গেছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।
সকাল থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ করেনি। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শতভাগ কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দুই নেতা শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বন্দরের এই অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে বৃহস্পতিবার আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আজ রবিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচলের ডাক দেয়। ফলে কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ফের অচলাবস্থায় পড়েছে বন্দর।
গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ৫১ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার আটকা পড়ে। জেটিতে থাকা জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হলেও তা আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা প্রায় ১০০, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



















