প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনসংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জানান যে, সারা দেশে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চলছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে একে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “কেউ কারও বিরুদ্ধে কটূ কথা বলছে না, যা আমাদের সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।” তবে সামনের এক সপ্তাহকে ‘অত্যন্ত ক্রুশিয়াল’ বা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও ‘ভোট উৎসব’: এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টিতে বডি ওর্ন ক্যামেরা (Body-worn Camera) ব্যবহার করা হবে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং ‘নির্বাচন বন্ধু’ (হটলাইন ৩৩৩) সেবা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত স্ট্রাইকিং ফোর্সের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ভোট ইতিহাসে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং নারীরা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সপরিবারে এই উৎসবে যোগ দেবেন।
নির্বাচনী নিরাপত্তার পরিসংখ্যান ও প্রস্তুতি: নির্বাচনের দিন শান্তি বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য এবং ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বড় অংশ আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এ ছাড়াও প্রায় ৪০০ বিদেশি ও ৫০ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ১২০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহে মাঠে থাকবেন।
বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করায় এখন ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটারের এই বিশাল নির্বাচনে ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। প্রবাসীদের মধ্যে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন, যার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে এমন একটি আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।



















