ভাড়া বৃদ্ধি ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে গুলশানের নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, এখন থেকে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারিত হওয়ার পর তা টানা দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থবছরের জুন-জুলাই মাসের আগে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং দুই বছরের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না।
চুক্তি ও অগ্রিম ভাড়ার নিয়ম নতুন নির্দেশনায় ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে লিখিত চুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বার্ষিক ভাড়া কোনোভাবেই ওই ভবনের বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া, বাড়িভাড়া নেওয়ার সময় মালিক সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ মাসের অগ্রিম ভাড়া নিতে পারবেন, এর বেশি নয়। চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির হার, অগ্রিম জমা এবং বাড়ি ছাড়ার শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
উচ্ছেদ ও বকেয়া ভাড়ার বিধান ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে এবং মালিককে অবশ্যই লিখিত রসিদ দিতে হবে। যদি কোনো ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হন, তবে মালিক প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে দুই মাসের লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদ করার অধিকার রাখবেন। একইভাবে, আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ দুই মাসের আগাম নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
নিরাপত্তা ও ইউটিলিটি সুবিধা বাড়িওয়ালার জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি:
- গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
- নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেটের চাবি (শর্তসাপেক্ষে) প্রদান করতে হবে।
- বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
- বাড়ির মালিককে অবশ্যই ভবনটি বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে।
বিবাদ মীমাংসায় ওয়ার্ড ভিত্তিক সমিতি বাড়িভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা বিবাদ নিরসনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করা হবে। বিবাদের ক্ষেত্রে প্রথমে এই সমিতি সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১’ এর আলোকে এই নির্দেশিকাগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।



















