৯৩ বছরেও উদ্ধার হয়নি রোকেয়ার সাড়ে তিন শ বিঘা জমি; পায়রাবন্দে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের আজ ৯ ডিসেম্বর, শুভ জন্ম ও মৃত্যু দিবস। দিবসটি ঘিরে রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে তিন দিনব্যাপী ভিন্নধর্মী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশেষ দিনটিতেও রোকেয়ার বসতভিটার বিশাল অংশ বেদখল থাকা এবং স্মৃতি কেন্দ্রের অপ্রতুল রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে গভীর হতাশা।
বেগম রোকেয়ার মৃত্যুর ৯৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাঁর বসতভিটার সাড়ে তিন শ বিঘা জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও নেই দখলকারীদের কোনো তালিকা। বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল জানান, “বেগম রোকেয়ার ৩০০ বিঘার ওপরে লাখেরাজ সম্পত্তি ছিল। কিন্তু তাঁর নামে এখন ১ শতক জমিও নেই।”
বর্তমানে স্মৃতি কেন্দ্রটি মাত্র ৩ একর ২৫ শতকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এবং তাঁর বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ ৩০ শতকের ওপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড রয়েছে।
আলো-আঁধারের স্মৃতি কেন্দ্র:
১৯৯৭ সালে রোকেয়ার জন্মভিটায় স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এটি বিকেএমই গার্মেন্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হয়। সেনাসমর্থিত সরকার চলে যাওয়ার পর রোকেয়াচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এটিকে ফিরিয়ে আনার দাবি থাকলেও তা বাস্তবে খুব একটা হয়নি। তবে স্মৃতি কেন্দ্রে আজ থেকে মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ, শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও সংগীত প্রশিক্ষণ চালু হচ্ছে। বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবিদ করিম মুন্না আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব দ্রুতই স্মৃতি কেন্দ্রটি আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে।
অন্যান্য তথ্য:
- ক্রোড়পত্র: রোকেয়া দিবস উপলক্ষে সরকার মাত্র ৯টি দৈনিক পত্রিকায় (দৈনিক আমার দেশ, দেশ রূপান্তর, যুগান্তর, যায় যায় দিন, প্রথম আলো, ঐষী বাংলা, ডেইলি স্টার, নিউএজ ও দি পিপল) বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।
- দেহাবশেষ স্থানান্তরের দাবি: প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর এলে কলকাতার সোদপুর থেকে রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দের মাটিতে সমাহিত করার দাবি জোরালো হয়।
- সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: রংপুরের পায়রাবন্দের খোর্দমুরাদপুর গ্রামে রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। খানবাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন, অর্ধাঙ্গী, মতিচূর ছাড়াও অসংখ্য বই লিখে তিনি সমাদৃত। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান এবং কলকাতার সোদপুরে তাঁকে সমাহিত করা হয়।



















