পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের সমস্যা গভীর এবং এক-দুই বছরে সব সমাধান সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেককে তার নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সমাবর্তন ২০২৫-এ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের এবং দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, পরিবেশবান্ধব এবং নারী-বন্ধব সমাজ গঠনে সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা যে বাংলাদেশকে চিনি, আমাদের সন্তানেরা হয়তো সেই মানচিত্র আর দেখবে না যদি এখনই সচেতন না হই। বায়ুদূষণ, বনধ্বংস ও নদী দূষণের মতো সমস্যা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে সমাধান সম্ভব। ইতোমধ্যে নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় আইন-নীতির সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান।
প্রাণীকল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবিক সমাজ গড়তে হলে প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি সদয় হতে হবে। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো প্রজন্ম গঠন ও বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের বলেন, দায়িত্ব নিতে হবে, সমাজের জন্য ভাবতে ও কাজ করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে এবং মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ফারাহনাজ ফিরোজ; ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউনুছ মিয়া এবং রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিনও বক্তব্য রাখেন।
সমাবর্তন ২০২৫–এ ৫টি অনুষদ ও ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ১,৪০৭ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ সিজিপি অর্জনের জন্য ৫ অনুষদ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক এবং আরও ৪০ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।



















