নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) চেয়ারম্যান কেপি শর্মা ওলি-কে আজ শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) সকালে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও। গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে হওয়া তরুণ প্রজন্মের (Gen Z) নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ ও ‘নরহত্যা’র অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
- গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট: গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। একটি তদন্ত কমিশনের (গৌরী বাহাদুর কারকি কমিশন) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধা না দিয়ে বরং পরোক্ষভাবে প্রাণহানি ঘটাতে সহায়তা করেছেন। ওই ঘটনায় অন্তত ১৯ জন তরুণ প্রথম দিনেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।
- নতুন সরকারের পদক্ষেপ: র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ (বালেন) গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মন্ত্রিসভা তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, যার প্রেক্ষিতে আজ এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি অভিযান চালানো হলো।
- বিজিবির মতো নেপাল পুলিশের বক্তব্য: পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, ওলিকে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকা এবং রমেশ লেখককে সূর্যবিনায়ক থেকে আটক করে কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ রেঞ্জে নেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র।”
- রাজনৈতিক গুরুত্ব: নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক সরকার প্রধানকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো। ৫ মার্চের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর এটি ওলি ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে কাঠমান্ডুসহ নেপালের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ওলির দল জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকালের মধ্যে তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।



















