প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করে একটি আধুনিক, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা খাতের এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম-এর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাজেট ও মৌলিক পরিকল্পনা
- জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
- ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র: এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা খাতের ৪৩টি বিশেষ ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
২. প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুবিধা
- বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস: চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
- মিড-ডে মিল: শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সকল উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ‘স্কুল ফিডিং’ বা মিড-ডে মিল চালু করা হবে।
৩. ডিজিটাল বিপ্লব ও ‘এডু-আইডি’
নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী:
- ফ্রি ওয়াই-ফাই: আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২,৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮,২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা দেওয়া হবে।
- এডু-আইডি (Edu-ID): প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য একটি অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
৪. কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন
- বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা: মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল: দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
- স্মার্ট মাদ্রাসা: মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং আধুনিক কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৫. অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ
আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC)-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ৫টি বিশেষ ক্ষেত্রে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: ১. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ২. সাইবার সিকিউরিটি ৩. মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাটার) ৪. পাইথন প্রোগ্রামিং ৫. এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং
প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাবে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















