হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শত শত ব্যবসায়ীর পণ্য। পোশাক শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে ওষুধ, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের পণ্য—সবই আগুনে ছাই হয়ে গেছে। এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও সেই পণ্য এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আশঙ্কা করছে, আগুনে প্রায় ২৫০টি কারখানার পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
উত্তরার গার্মেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট অ্যান্ড সেফ-এর মালিক মো. বেনজির জানান, হংকং ও চীন থেকে আসা দুই শিপমেন্টের সব রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, জেমটেক্স লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর এমডি ইমরান আহমেদ বলেন, দুই কোটি টাকার অ্যাক্সেসরিজ ধ্বংস হয়েছে, যা দিয়ে রপ্তানি অর্ডার পূরণ হওয়ার কথা ছিল।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বলেন, উচ্চমূল্যের ও জরুরি শিপমেন্ট পুড়ে যাওয়ায় দেশের রপ্তানি খাত বড় ধাক্কা খাবে। তিনি জানান, বিজিএমইএ শিগগিরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “রপ্তানি খাতের ক্ষতি কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।”
বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার জানান, তাদের সদস্যদের ১০০ কোটি টাকার বেশি পণ্য আগুনে পুড়েছে, যদিও বেশিরভাগ পণ্য বিমার আওতায় রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেন, “আমদানি করা সব পণ্যই আগুনে ধ্বংস হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব করতে ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট চলছে।”
এদিকে এফবিসিসিআই ও ডিসিসিআই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা এবং বিমানবন্দরসহ সব বন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, বিকল্প স্থানে বিশেষ ব্যবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে, যাতে বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।



















