তিস্তা নদী রক্ষায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা উত্তরাঞ্চল। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় (লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) একযোগে ১১টি পয়েন্টে মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু রংপুর থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তিস্তা তীর জুড়ে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে উত্তরাঞ্চল।
দুলু বলেন, “তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। জনগণ এখন তিস্তার ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ধীরগতির কারণে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরোধীরা জাতীয় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবেন।”
দুলু আরও বলেন, “নভেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে রংপুরের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো বিভাগ অচল করে দেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, তিস্তার ভাঙন, চর উত্থান ও নদীর শুকিয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি বিলীন, ঘরবাড়ি ধসে পড়া এবং জীবিকা হারিয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
মশাল মিছিলের স্লোগান ছিল—
“জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই।”
কর্মসূচিতে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, “তিস্তা ইস্যু এখন উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। দুর্ভিক্ষ নেমে আসার আগেই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”



















