ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৫: পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। পুলিশ এটিকে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ফল বললেও, সোহাগের পরিবার চাঁদাবাজিকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে দাবি করছে। এ ঘটনায় জড়িত ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোহাগের স্বজনদের অভিযোগ, খুনিরা সোহাগের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা প্রচলিত এবং একটি দোকানের দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। তিনি জানান, নিহত সোহাগ এবং সন্দেহভাজন খুনিরা পরস্পর পরিচিত এবং একসময় একসঙ্গে ব্যবসা করেছেন, কিন্তু ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তবে চাঁদাবাজির বিষয়টি তাদের নলেজে নেই বলে ডিসি জানান।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাহমুদুল হাসান মহিন (মূল পরিকল্পনাকারী), তারেক রহমান রবিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির ও টিটন গাজী। এদের মধ্যে তারেক রহমান রবিন গতকাল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সোহাগের মৃত্যুর পর বড় মনির ও ছোট মনির তার লাশের ওপর উঠে উল্লাস করেছেন এবং লম্বা মনির ও আলমগীর পাথর মেরেছেন।
বরগুনায় সোহাগের গ্রামের বাড়ি ঢলুয়া ইউনিয়নের বান্দরগাছিয়া গ্রামে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং খুনিদের লোকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে হুমকির অভিযোগ করছেন। সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম (৩০) তার দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তান সোহান (১০) ও সোহানাকে (১৪) কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন, তা নিয়ে দিশেহারা। তিনি জানান, সোহাগই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গতকাল সোহাগের গ্রামের বাসিন্দাদের আয়োজিত মানববন্ধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি জসীম উদ্দিন আরও জানান, ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই সোহাগের বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততাকেই মুখ্য বিবেচনা করছে।



















