টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের ২১টি জেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ মোট ২১টি জেলার প্রায় ৭২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল ফেনীতেই এক হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যা কৃষিজমিতে থাকা ফসলকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
এই বন্যায় ২১ জেলার আউশ ধান, আমন বীজতলা, বোনা আমন, পাট, শাকসবজি, ফলবাগান, পান এবং তরমুজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, অবিরাম বর্ষণের ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলের এই ২১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অনেক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের বিস্তারিত তথ্য: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ৭২ হাজার ৭৬ হেক্টর জমির মধ্যে আউশ আবাদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬৬২ হেক্টর, আমন বীজতলা ১৪ হাজার ৩৯৩ হেক্টর, শাকসবজি ৯ হাজার ৬৭৩ হেক্টর, এবং পাট ১৩৫ হেক্টর। এছাড়া, কলা (১১৪ হেক্টর), পেঁপে (২৯৩ হেক্টর), পান (৩৮৭ হেক্টর), বোনা আমন আবাদ (২৯৭ হেক্টর), মরিচ (১০৪ হেক্টর), এবং গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ (২৮১ হেক্টর) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লার পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক, যেখানে ১১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমির ফসল (আউশ, আমন, শাকসবজি, মরিচ ও আখ) পানিতে ডুবেছে। নোয়াখালীতে ৭ হাজার ৮০৬ হেক্টর জমির ফসল (আউশ, আমন, শাকসবজি, মরিচ ও তরমুজ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফেনীতে ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল (আউশ, আমন, শাকসবজি ও মরিচ) তলিয়ে গেছে।
ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম: বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশার কথা শুনিয়েছে যে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ফসলের জলমগ্ন থাকার হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।



















