পবিত্র আশুরাকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই, বরং পর্যাপ্ত ও সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে রাজধানীর লালবাগে হোসেনি দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
সুরক্ষার অঙ্গীকার:
নজরুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হয়েছে। বিচার শুরু হয়েছে। অনেকের মনের মধ্যে ক্ষোভ আছে। দুই-চারটি ঘটনা ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক না। কিন্তু পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। যারা এই কাজগুলোর সঙ্গে জড়িত তাদের আমরা আইনের আওতায় আনব।”
২০১৫ সালের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “অপরাধ অপরাধই। বোমা মেরে মানুষ মারা অপরাধ। অপরাধের বিচার প্রচলিত আইনে যেভাবে আছে, সেভাবে হবে। এটাকে কোনো লেবাস দিয়ে কালারিং করার কোনো প্রয়োজন নেই। সেটা যে আমলেই হোক। আমরা এ বিষয়ে অবগত। আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।”
বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা:
এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার জানান যে, আগামী ৬ জুলাই পবিত্র আশুরা পালিত হবে। ২৭ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিয়া এবং অনেক সুন্নিও এই শোক দিবস পালন করবেন। তিনি বলেন, পবিত্র আশুরাকে কেন্দ্র করে ডিএমপি প্রতি বছর সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে এবং এ বছরও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোসেনি দালান, বড় কাটরা, মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্প, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা, মিরপুর পল্লবী বিহারি ক্যাম্পসহ অন্যান্য স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মো. সরওয়ার আরও বলেন, শিয়া ও অন্যান্য ধর্মীয় সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা করা হয়েছে। ইমামবাড়াগুলোর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উঁচু ভবনের ছাদে সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।
মিছিল ও যান চলাচল নির্দেশনা:
তাজিয়া ও শোক মিছিল সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, যেসব সড়কে তাজিয়া বা শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে, সেসব রাস্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে। রাস্তার পার্শ্ববর্তী উঁচু ভবনগুলোতে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তাজিয়া মিছিলের সামনে, পেছনে এবং মধ্যবর্তী অংশে পুলিশের স্পেশাল বা দক্ষ টিম মোতায়েন থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হবে। তাজিয়া মিছিল চলাকালে যানজট নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে। বড় ধরনের মিছিল শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকা সুইপিং করা হবে। ফুটপাতে কোনো দোকানপাট বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা যথা সময়ে অপসারণ করা হবে।
জরুরি পরিষেবা ও নিষেধাজ্ঞা:
এছাড়াও, ডুবুরি দল, অগ্নিনির্বাপক যান বা সরঞ্জামাদি এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। বোমা বিশেষজ্ঞ দল এবং সিআইডি’র ক্রাইম সিন টিম দ্রুত রেসপন্স করার জন্য স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নিষিদ্ধ সংগঠন বা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপপ্রচার বন্ধে সাইবার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ এবং মিছিল আয়োজনকারী ও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে মো. সরওয়ার কিছু নির্দেশনা দেন:
- নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহায়তা করা যেতে পারে।
- তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যেন কোনো প্রকার ধাতব বা দাহ্য পদার্থ, ছুরি, চাকু, তরবারি, লাঠি, বল্লম, ব্যাগ, সুটকেস, ছাতা বা সন্দেহজনক প্যাকেট নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে বা মিছিলে না আসেন।
- মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যেন আতশবাজি বা পটকা ব্যবহার না করেন।
- ভীতি সঞ্চার যেন না হয়, সেজন্য রাতে পাঞ্জা মেলানো থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা উচিত।
- মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ মাত্রায় শব্দ তৈরিকারী যন্ত্র, যেমন-মাইক বা ঢোল ইত্যাদি বাজিয়ে ঢাকাবাসীকে বেশি বিরক্ত যেন না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- মিছিলে সুশৃঙ্খলভাবে অংশ নিয়ে মিছিল শেষে সুশৃঙ্খলভাবে গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে।
- যারা মিছিলে অংশ নেবেন, তারা যেন মিছিল শুরুর আগেই অংশ নেন, কোনোভাবেই মধ্যবর্তী স্থানে যেন অংশ না নেন।
- সন্দেহজনক কিছু মনে হলে পুলিশকে ৯৯৯-এ কল করে জানাতে হবে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, ১ মহরম থেকে ১০ মহরমের মধ্যে মোট ২৫টি মিছিল হবে। এর মধ্যে ৩ জুলাই তিনটি, ৪ জুলাই ১১টি, ৫ জুলাই ১৭টি এবং ৬ জুলাই ১৯টি মিছিল হবে। মিছিল চলাকালীন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তাই জনগণকে মিছিলের সময় এড়িয়ে চলাচলের আহ্বান জানান তিনি।



















