অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, কেউ রাজনীতি করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে সরাসরি রাজনীতির অঙ্গনে চলে যাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, “পঙ্কিল রাজনীতি আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে আনবেন না। এ হচ্ছে আমাদের আহ্বান।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, “সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক সরকার আসবে তারা বিষয়গুলোকে বিবেচনায় আনবে।”
সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (বিশ্ববিদ্যালয় দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
নিজের শিক্ষকতা জীবনের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, “আমি ৪০ বছর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেছি। জ্ঞানত আমি কখনো ফাঁকি দেইনি। সব সময় নীতিবান শিক্ষক হিসেবে আদর্শ ধারণ করতে চেষ্টা করেছি…।” তবে তিনি শিক্ষকদের একাংশের অনিয়মের চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন শিক্ষকও দেখেছেন যারা ৩০-৪০টা ক্লাসের মধ্যে মাত্র ৪-৫টা ক্লাস নিতেন এবং বাকি ক্লাসগুলো বাদ দিতেন। এমনকি ক্লাসে যেতেও তারা গড়িমসি করতেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে “শিক্ষক রিক্রুটমেন্ট” না হয়ে “ভোটার রিক্রুটমেন্ট” হতো। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “নতুনভাবে আমাকে সব কিছু ঢেলে সাজাতে হবে।” তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত রাখা এবং তাদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকদের নিজস্ব নীতিবোধকে সমুন্নত রাখতে হবে এবং নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



















