গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ভোটদানে বিরত থাকায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও হতাশাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শনিবার (১৫ জুন, ২০২৫) এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “এই সিদ্ধান্তের কোনো নৈতিক বা কূটনৈতিক ভিত্তি নেই। প্রকৃত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের জন্য ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দরকার।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি পুরো জাতিকে ধ্বংস করছেন, তখন ভারত শুধু নীরব সমর্থকই নয়, বরং ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলকে উৎসাহিত করছে। তার মতে, এটি একটি দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার সম্পূর্ণ বিরোধী।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উল্লেখ করেন, গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একটি গোটা জনসংখ্যাকে অবরুদ্ধ করে অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ভারত কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি এই অবস্থানকে ভারতের উপনিবেশবিরোধী ঐতিহ্য থেকে ‘করুণ পশ্চাদপসরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার প্রশ্ন, “কীভাবে আমরা আমাদের সংবিধানের নীতিমালা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে পারি, যেগুলো শান্তি ও মানবতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল?”
প্রিয়াঙ্কার মতে, অতীতে ভারত বারবার ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতা দেখিয়েছে। আজকের বিভক্ত বিশ্বে ভারতের উচিত মানবতার পক্ষে আওয়াজ তোলা এবং সত্য ও অহিংসার পক্ষে নির্ভয়ে দাঁড়ানো।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৪ জুন, ২০২৫) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গাজায় অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ১৪৯টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ছিল ১২টি দেশ, এবং ভারতসহ ১৯টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রসঙ্গত, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আগেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। গত বছর সংসদ অধিবেশনে তাকে একটি ব্যাগ বহন করতে দেখা যায়, যাতে ‘Palestine’ লেখা ছিল এবং তাতে তরমুজের প্রতীক ছিল, যা ফিলিস্তিন সংহতির একটি বৈশ্বিক প্রতীক।



















