দিন যতই যাচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত। কোনো পক্ষই কাউকে ছাড় দিচ্ছে না, হামলা-পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে দুই দেশেই।
এদিকে, এই ভয়াবহ সংঘাতের লাগাম টানতে ইরানকে সমঝোতায় আনতে মরিয়া ইসরায়েলের সহযোগীরা। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলের নিঃশর্ত সমাপ্তি ব্যতীত এই যুদ্ধের ইতি টানা সম্ভব নয়।
শুক্রবার (২০ জুন, ২০২৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কথা জানান। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের নিঃশর্ত সমাপ্তিই এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। যদি এমনটা না হয় তাহলে ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকবে।” পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “তারা আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে, যার ফলে হামলাকারীদের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের সময়সীমা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
এদিকে, ইরানে হামলার বিষয়ে দুই সপ্তাহের সময় নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট তাকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা সামনে রয়েছে – যা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। ইরানের সঙ্গে হামলায় জড়াবে কি না, সে ব্যাপারে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প।”
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এতে প্রাথমিক আলোচনা থেকে কোনো সমঝোতার আভাস পাওয়া যায়নি। ইরান-ইসরায়েল উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও নতুন হামলার নির্দেশ
অন্যদিকে, শুক্রবার (২০ জুন, ২০২৫) ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) দিবাগত রাত ও শুক্রবার দিনভর ইরান-ইসরায়েল উভয় পক্ষই হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে, কোনো পক্ষই ছাড় দেয়নি। তবে এদিন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের ভয়াবহ হামলা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইরানের হামলায় হাইফায় ১৭ ইসরায়েলি আহত হয়, যাদের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিরশেবায় একাধিক ভবনের বহু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়েছে একাধিক যানবাহন। এছাড়া ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রধান একটি সড়কে বিশাল গর্ত দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরশেবা শহরের সামরিক গোয়েন্দা ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার দাবি করেছে ইরান।
অন্যদিকে, ইরানেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় ইরানের আরেক পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন, যদিও এই খবরের সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আবারও ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়ালে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।



















