সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর অভিযোগে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোষ্ঠীটি ‘খুবই খারাপ আচরণ করছে’ বলে মন্তব্য করলেও তাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হুথিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। মোটেও ভালো নয়।’ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনার পর তার এ মন্তব্য সামনে আসে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ বক্তব্যেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটির দিকে হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় খামিস মুশাইত এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের কয়েকটি বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করছে তেহরান।
আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানো দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান।
এর আগে গত সপ্তাহে আরাঘচি বলেছিলেন, ইরান আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে কূটনীতির পথ ব্যবহারের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা আন্তরিক বলেও জানান তিনি।
সৌদি আরবে হামলার ঘটনা, হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান এবং ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।


















