শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রেখে শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানিয়েছেন, সরকার লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি শিল্প খাতকে সচল রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এ জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ ৯৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। বিপরীতে শিল্প, বাসাবাড়ি, সিএনজি ও অন্যান্য গ্রাহকের জন্য সরবরাহ বাড়িয়ে ১৩৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। সার খাতে দেওয়া হচ্ছে ১৭ কোটি ঘনফুট।
রোববার বিকেল ৪টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৭ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি ছিল ৭৫ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। তবে ২৬ আগস্টের জন্য নতুন এলএনজি কার্গো না পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে এই পরিমাণ সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
এলএনজি সংকটের মধ্যে শিল্পকারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের ঘাটতিতে ভুগছে। ফলে শত শত কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের ওপর বিদ্যুৎ খাতের চাপ কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে ৫৩টির বেশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১৪৭ মেগাওয়াট। সরকার আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ খাত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে।
এ জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ফার্নেস অয়েলের মজুত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) জানিয়েছে, বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সহজেই ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এজন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা প্রয়োজন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি সরবরাহ ও দাম—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। এমনকি স্পট মার্কেটে টেন্ডার করেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লারে আগুন লাগার পর দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। ৫ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হলেও নিয়মিত কার্গো না পাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
২২ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো যুক্ত হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় আগে লোডশেডিং
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হলে সবার আগে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং করা হবে। তবে তা এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সহনীয় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এরপর জেলা শহর এবং সবশেষে প্রত্যন্ত এলাকায় লোডশেডিং দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে


















