বুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই আজ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে আজ বুধবার চুক্তি সই হবে।

চুক্তিতে চারটি ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ সম্পন্ন করতে চায়।

রাজধানীর একটি হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চুক্তি সই হবে। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন।

সরবরাহ এগিয়ে আনার চেষ্টা

এয়ারবাসের উড়োজাহাজের সরবরাহপ্রক্রিয়া দ্রুততর করার তাগিদ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির প্রক্রিয়া এগোলেও উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ সময়সূচি এগিয়ে আনা প্রয়োজন। এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে শুরু হতে পারে। তবে সরকার চায়, ২০৩০ সালের আগেই সরবরাহ শুরু হোক।

বৈঠকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কারখানা স্থাপনে লুফথানসার বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ২০১৭ সাল থেকে কার্গো পরিবহনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ সতর্কতা তুলে নিতে জার্মানির কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

বোয়িং থেকে আসবে আরও ২৫ উড়োজাহাজ

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮।

দ্বিতীয় দফায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ আসা শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে।

চুক্তি সই হলেও উড়োজাহাজগুলোর জন্য এখনই অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় সেটির মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমানের পক্ষ থেকে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বহরে উড়োজাহাজের সংকট

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বাকি উড়োজাহাজগুলোরও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উড়োজাহাজ লিজ নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের চুক্তিবদ্ধ ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে আগামী বছরগুলোতে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজ মিলিয়ে তখন বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যাবে।

সর্বশেষ - অপরাধ