শুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মালয়েশিয়ায় বেতন-ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশিদের ৪৫০ অভিযোগ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমান। তবে বিদেশে গিয়ে সবার ভাগ্য বদলায় না। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কলিং ভিসায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণ, বেতন বকেয়া, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এসব সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগ নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।

যেসব অভিযোগ বেশি

হাইকমিশনে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বেতন পরিশোধে বিলম্ব বা বকেয়া, ভিসা নবায়ন, নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধ।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে অনেক শ্রমিককে চাকরি পেতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন বা কর্মপরিবেশ না পেলে সেই ঋণের চাপ আরও বেড়ে যায়।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরি, বেতন ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়, বাস্তবে অনেক সময় তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। ফলে নতুন কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন।

এক শ্রমিক বলেন, মালয়েশিয়ায় আসার পর বেতন বা চাকরির শর্ত নিয়ে সমস্যা হলে অনেকেই শুরুতে বুঝতে পারেন না কোথায় গেলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাবে। ঋণের কিস্তি, পরিবারের খরচ এবং বৈধ কাগজপত্র ঠিক রাখার চাপ একসঙ্গে থাকায় অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে সমস্যার মধ্যেই কাজ চালিয়ে যান।

নিয়োগের আগেই নজরদারির দাবি

আরেক শ্রমিকের মতে, নিয়োগের সময় সব শর্ত স্পষ্টভাবে লিখিত ও যাচাইযোগ্য থাকলে মালয়েশিয়ায় এসে অনেক বিরোধ এড়ানো সম্ভব। নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, বেতন বকেয়া কিংবা ভিসা জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

কমিউনিটি নেতারা বলছেন, শ্রমিকের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সমাধানের চেয়ে নিয়োগের শুরুতেই অনিয়ম বন্ধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর আগে চাকরির ধরন, বেতন, কর্মস্থল, আবাসন, নিয়োগকর্তা এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, শ্রমিকের সুরক্ষায় বাংলাদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা, সরকারি সংস্থা ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় দরকার। একই ধরনের অভিযোগ যাতে বারবার না আসে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

কমিউনিটি প্রতিনিধিরা আরও বলেন, অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় আদায়, প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব চাকরির অমিল এবং বেতনসংক্রান্ত বিরোধের মতো বিষয়গুলোতে শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি থাকলে পরবর্তী সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় হাইকমিশনের উদ্যোগ

এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্স (আরবিএ) আয়োজিত ‘কমিটমেন্ট থেকে অ্যাকশন: সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবাধিকার যথাযথ পর্যালোচনার সর্বোত্তম চর্চা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সর্বোত্তম চর্চা তুলে ধরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিতকরণ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকমিশন কাজ করছে।

অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রতিরোধ জরুরি

হাইকমিশনের হিসাবে, প্রায় ৪৫০টি অভিযোগের মধ্যে ৩৩০টির বেশি সমাধান হওয়া শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে যেসব অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিউনিটি নেতাদের মতে, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিকার দিলেই হবে না; নিয়োগের প্রথম ধাপ থেকেই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম ও আস্থাও বাড়বে।

শ্রমিকদের প্রত্যাশা, বিদেশে যাওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাওয়া বাস্তব সুযোগের মধ্যে যেন কোনো ফারাক না থাকে। আর সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করাই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত