শনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বরফ গলছে হিমালয়ে, অস্তিত্ব সংকটে পাহাড়ের প্রাণীরা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়। বাড়ছে হিমবাহ গলার হার, আর এর ফলে হঠাৎ নেমে আসছে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির ভয়াবহ স্রোত। ধ্বংস হচ্ছে সড়ক, সেতু, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে হাজার বছরের বিবর্তনে গড়ে ওঠা হিমালয়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীদের আবাসস্থল।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ২৬ আগস্টের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল আবারও হিমালয়ের জলবায়ু ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। লেন্দে খোলা নদীতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ বরফ, শিলা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও হিমবাহ ও পাহাড়ের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি বিপন্ন হচ্ছে পাহাড়ের প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল।

তুষার চিতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে

হিমালয়ের অন্যতম প্রধান শিকারি তুষার চিতা। ঠান্ডা পরিবেশ, পাথুরে ঢাল, পাহাড়ি তৃণভূমি ও নির্দিষ্ট শিকার প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল এই প্রাণী। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে গাছপালার বিস্তৃতি ও গাছের সীমারেখা আরও ওপরে উঠে গেলে তুষার চিতার আবাসস্থল সংকুচিত ও খণ্ডিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে খাদ্যসংকটও বাড়তে পারে।

রেড পান্ডার আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে

পূর্ব হিমালয়ের ঠান্ডা ও আর্দ্র বন এবং বাঁশঝাড় রেড পান্ডার প্রধান আবাস। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হলে এসব বনাঞ্চলের পরিবেশও বদলে যেতে পারে। ফলে রেড পান্ডার বিস্তৃতি ও সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মস্ক ডিয়ারও বিপদের মুখে

মস্ক ডিয়ার বা কস্তুরী হরিণ ইতোমধ্যে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এর সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। পরিবেশের সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ শিকার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

পিকার মতো ছোট প্রাণীর ওপরও প্রভাব

হিমালয়ের উচ্চভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী পিকা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি বেশ সংবেদনশীল। আবহাওয়ার পরিবর্তনে কিছু প্রজাতি টিকে থাকতে পারলেও অনেক প্রজাতির জন্য দ্রুত বদলে যাওয়া পরিবেশ বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পিকার সংখ্যা কমে গেলে তাদের ওপর নির্ভরশীল বড় শিকারি প্রাণীদের খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রভাব পড়বে।

মোনালের আবাস সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা

হিমালয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় পাখি মোনালও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে গাছের সীমারেখা ওপরে উঠে গেলে মোনালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলপাইন তৃণভূমি সংকুচিত হতে পারে। অনিয়মিত তুষারপাত ও দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং প্রজননেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রাউন বিয়ারও ঝুঁকিতে

হিমালয়ের ব্রাউন বিয়ারের খাদ্য ও আবাসস্থলও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। বসবাসের উপযোগী অঞ্চল সংকুচিত হলে এই প্রাণীর ওপরও বাড়বে টিকে থাকার চাপ।

শুধু পাহাড় নয়, বিপদে নদীর প্রাণীও

হিমবাহের পরিবর্তনের প্রভাব পাহাড়ের প্রাণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হিমবাহ গলার ফলে নদীর প্রবাহ, পানির তাপমাত্রা ও পলির গতিপ্রকৃতি বদলে যেতে পারে। আকস্মিক হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণ ও পাহাড়ধস নদীর পরিবেশে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। এতে মাছ, জলজ পোকামাকড়, উভচরসহ নদীকেন্দ্রিক পুরো খাদ্যশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা

হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলো বাংলাদেশসহ গাঙ্গেয়-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই হিমবাহের পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পাহাড়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে নদীর প্রবাহ, বন্যা, পানির প্রাপ্যতা, কৃষি ও জলজ বাস্তুতন্ত্রও জড়িত।

পরিবেশবিদদের মতে, কোনো প্রাণী সাধারণত একদিনে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। প্রথমে কমে যায় তার আবাসস্থল, এরপর খাদ্যের সংকট তৈরি হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রাণীগোষ্ঠী এবং কমে যায় প্রজননের সুযোগ। একপর্যায়ে কোনো কোনো প্রজাতি এমন সংকটের মুখে পড়ে, যেখান থেকে তাদের ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত পরিবেশ তাই শুধু একটি জলবায়ু সংকট নয়—এটি পুরো একটি জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় সতর্কবার্তা।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত