বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য এ যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঢাকা বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলো যদি একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলে, তাহলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এ চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কবে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

চলতি মাসে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা চুক্তি’তে সই করে। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে গঠিত এ চুক্তির মূল নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে জোটের সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই প্রতিরক্ষা কাঠামো ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।

তবে সম্ভাব্য এ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো একটি পক্ষ না নিয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে ঢাকা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে ভারত, চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যদিও এর অর্থ সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া নয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান বাজার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।

এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল সময়েই ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য আমন্ত্রণ এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চললেও বিভিন্ন ইস্যুতে এখনো টানাপোড়েন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয় নয়, বরং দেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঢাকা বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলো যদি একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলে, তাহলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশের নেতৃত্বকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এ চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে চুক্তিটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আমন্ত্রণটি কবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

চলতি মাসে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা চুক্তি’তে সই করে। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর আদলে গঠিত এ চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এ জোটে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ নিরাপত্তা চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে যোগ দিলে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। কারণ এতদিন ঢাকা বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে ভারত, চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি হতে পারে। যদিও এতে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।

অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

এমন প্রেক্ষাপটে ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে। সরকার শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত