২ থেকে ১০ গুণ লাভের লোভ দেখিয়ে অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের মাধ্যমে প্রতিদিন দেশের হাজার হাজার মানুষকে নিঃস্ব করছে সংঘবদ্ধ একাধিক আন্তর্জাতিক চক্র। বিভিন্ন জনপ্রিয় বেটিং সাইটের (যেমন—ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, মোস্টবেট) প্রলোভনে পড়ে কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ যুবসমাজ সর্বস্ব হারাচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (ডিবি ও সিআইডি) সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, দেশে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দুবাই, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা এই চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ডিবি ও সিআইডির সাইবার পেট্রোলিংয়ে শত শত সন্দেহভাজন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট শনাক্তের পর বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, এই পুরো নেটওয়ার্কটি ‘মাস্টার, সুপার ও সাব-এজেন্ট’ কাঠামোর মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম্পিউটার ও আইটি খাতে দক্ষ তরুণরা সাব-এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হয়ে দ্রুত অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিচ্ছেন। সাইটের সার্ভারগুলো রাশিয়া, সাইপ্রাস, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় এবং মাস্টার এজেন্টরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় অপরাধীদের চূড়ান্ত মূলউৎপাটন কঠিন হয়ে পড়ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষকে এই ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।


















