সম্পদ বিবরণী প্রকাশ ও সরকারি স্বচ্ছতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সকল উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীর সম্পদের বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাঁর সরকারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব প্রকাশের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার পূর্ণ হলো। প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন—এই দুই সময়ের সম্পদের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্য প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ার থেকে এই আয় বেড়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাঁর স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কমে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য উপদেষ্টাদের মধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২৬ কোটি টাকা), যেখানে ছাত্র প্রতিনিধি থেকে আসা উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম (যথাক্রমে ২৮.২ লাখ ও ৪৬.২ লাখ টাকা)।
জবাবদিহিতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও পৃথকভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের বিবরণ প্রকাশ করেছেন। উপদেষ্টাদের অধিকাংশের সম্পদ গত এক বছরে আমানতের সুদ বা বিনিয়োগ থেকে বাড়লেও, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের মতো কয়েকজনের সম্পদ কমেছে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে সকল সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



















