ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধা ও সমমনা জোটগুলোর মধ্যে দেখা দেওয়া তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রশমনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্দোলনে শরিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী মন্ত্রিসভা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে পদায়নের বিষয়টি এখন নীতিগতভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, আগামী ১৬ আগস্ট সরকারের ছয় মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পর এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে। এতে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ জোটনেতা নতুন করে ক্যাবিনেট বা অন্য পদে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
এর আগে নির্বাচনে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, জাতীয় সরকারের অংশীদারিত্ব এবং সংরক্ষিত সংসদীয় আসন বা প্রশাসক নিয়োগের মতো সিদ্ধান্তগুলোতে শরিকদের না রাখায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জোটনেতাদের অভিযোগ ছিল, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চললেও চক্রান্তকারীদের অপপ্রচারের মুখে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ৩১ দফা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে সব মিত্র দলকে সাথে নিয়ে পথচলার পুনর্ব্যক্ত আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মতে, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্ত প্রতিহত করা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের দ্রুত মূল্যায়ন করা সরকারের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


















