ইরানের সঙ্গে টানা কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট রূপরেখা খুঁজে না পেয়ে চরম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট নিরসনে সম্প্রতি ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পথে রয়েছে। এ সমঝোতা বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের প্রধান এই নৌপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এটিকে ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক কূটনৈতিক নতিস্বীকার হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এই প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য কিংবা হস্তক্ষেপ মেনে না নেওয়ার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে আসছিল।
চুক্তিতে সম্মতি না দিয়ে মার্কিন বাহিনী পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং দেশীয়ভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঘাটতি থাকায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া দিনে দিনে কঠিন হয়ে উঠছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জোরদার করেছেন, তবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ সামলাতে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আপস করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাস ভেগাসের সাম্প্রতিক এক সমাবেশে ট্রাম্প কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরিস্থিতির প্রয়োজনে হামলার পথ খোলা রাখার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনুরোধ ও সামরিক রসদের ঘাটতির উদ্বেগে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত চূড়ান্ত হামলা থেকে বিরত রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতা চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: রয়টার্স


















