ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ‘নতুন সংগ্রামের’ ডাক দিয়েছেন। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার যুদ্ধ শেষ হলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষার আসল যুদ্ধ এখন শুরু হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সভায় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫২ শতাংশ মানুষের রায় পাওয়া এই নির্বাচনী ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় দলিলে পরিণত হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
সুশাসন ও বাকস্বাধীনতার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সুশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান যেখানে নারী, শিশুসহ সকল নাগরিক নিরাপদ বোধ করবেন এবং শিক্ষার্থীরা পাবে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ। দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল মূলত স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। তাই তাঁর সরকার দেশে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চায় যেখানে বিতর্ক ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রাধান্য পাবে। তিনি কঠোরভাবে নির্দেশ দেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে দলের সমর্থন ও সক্রিয় সমন্বয় ছাড়া সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়।
জাতীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তারেক রহমান যখন এই ‘নতুন সংগ্রামের’ রূপরেখা দিচ্ছেন, তখন দেশজুড়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রবাহমান। আজই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। অন্যদিকে, কাপাসিয়ায় ৫ জনকে হত্যা এবং সাভারে আনসার সদস্যদের ওপর হামলার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো প্রধানমন্ত্রীর সুশাসন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একই দিনে রাষ্ট্রপতির যুক্তরাজ্য সফর এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসার ঘটনাগুলোও জাতীয় শোক ও উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।



















