বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান কূটনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে পৌঁছেছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে দুই দেশের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ‘৫০-৫০’ বা ফিফটি-ফিফটি বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে সরাসরি ওয়াকিবহাল এক জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কূটনৈতিক কর্মকর্তা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে কূটনৈতিক আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে এবং দ্রুতই একটি চূড়ান্ত ফল আসবে; তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) কোনো প্রতিনিধি সরাসরি বৈঠকে না থাকায় এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরের মতোই ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার খবর নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মাসকাটের মধ্যস্থতায় তারা কেবল সামরিকভাবে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বাণিজ্যিক শর্তাবলী নিয়ে কথা বলছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে বাহিত মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি (LNG)-র বিশাল অংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হওয়ায় সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান যুদ্ধে বাধাগ্রস্ত হওয়া জলপথটি খুলে দিলে বিশ্ব বাজারে তেলের তীব্র লাফানো দাম ও এশিয়ার স্পট এলএনজি বাজারের অস্থিরতা অনেকাংশেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইআরজিসির চূড়ান্ত সম্মতি ছাড়া কেবল অন্তর্বর্তী চুক্তিতে জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হলেও, এই আলোচনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।


















