মৃত নাতনির মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে পাবনার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন নানি বুলু খাতুন (৫৭). কিন্তু বাড়িতে জীবিত ফেরা হলো না তাঁর, নিজেই লাশ হয়ে ফিরলেন স্বজনদের কাছে. আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নানিসহ দুইজন নিহত হয়েছেন. এই ভয়াবহ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আরও চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন. নিহতরা হলেন— নাতনির নানি বুলু খাতুন এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজ মিয়া (২৬). মৃত নাতনি কেয়া খাতুন পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামানিকের স্ত্রী এবং নিহত চালক রাজের তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত ঠিকানা পাওয়া যায়নি.
পাবনা মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেয়া নামের ওই তরুণী মারা যান. তাঁর মৃত্যুর পর স্বজনেরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি রাজশাহী থেকে পাবনায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন. অ্যাম্বুলেন্সটি পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ বাসের সামনের একটি চাকা হঠাৎ ফেটে যায়. চাকা ফেটে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়. বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক রাজ ও মৃত কেয়ার নানি বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান.
হাইওয়ে থানার ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক বাসটিকে জব্দ করেছে, তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে. পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে. একই সাথে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আহত অন্য চার স্বজনকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে. মৃত নাতনির লাশের সাথে নানির এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো মাহমুদপুর গ্রামে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে.


















