চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা. আটলান্টা স্টেডিয়ামে থমাস টুখেলের শিষ্যদের স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ফাইনালে ওঠে লিওনেল মেসির দল. নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার রাতে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে তরুণ ও শক্তিশালী স্পেনের. ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে আলবিসেলেস্তেরা. প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত সমতাসূচক গোল এবং এর মাত্র তিন মিনিট পর লাউতারো মার্তিনেজের জাদুকরী হেডে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা. প্রথমার্ধে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে তীব্র শরীরী লড়াই ও মারামারি চললেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে দারুণ গতি ফিরে আসে, যেখানে ৪৭ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড.
খেলার ৫৫ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডেকলান রাইস ও মরগান রজার্সের চমৎকার বোঝাপড়ায় নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়ান অ্যান্থনি গর্ডন, যার ফলে ১-০ তে এগিয়ে যায় থ্রি-লায়ন্সরা. গোল হজমের পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিওনেল স্কালোনির দল. ৬৯ মিনিটে নিকোলাস গনসালেসের হেড পিকফোর্ড ঠেকালেও ৭৩ মিনিটে রদ্রিগো ডি পল মাঠে নামলে আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায়. ৭৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশা বাড়ে. তবে ৮৫ মিনিটে মেসির শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার বুলেট গতির শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ. ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের (যোগ করা সময়) দ্বিতীয় মিনিটে মেসির আরেকটি নিখুঁত ক্রস থেকে জন স্টোনস ও রিস জেমসকে পরাস্ত করে দর্শনীয় হেডে জয়সূচক গোলটি করেন ‘এল তোরো’ খ্যাত লাউতারো মার্তিনেজ. শেষ বাঁশি বাজতেই ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনার ডাগআউট মেতে ওঠে ফাইনালের উল্লাসে.



















