সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৩, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ

Spread the love

দেশে মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস হয়েছে। পাস হওয়া নতুন এই সংশোধিত বিলে সাইবার স্পেস, ইন্টারনেট বা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, অর্থায়ন ও ডিজিটাল প্রচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে সংসদে বহুল প্রতিক্ষিত এই বিলটি পাসের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটির ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং বিভিন্ন ধারা সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা আইনের অপপ্রয়োগ রোধে কিছু ধারার সংস্কার দাবি করলেও দীর্ঘ আলোচনার পর তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং মূল বিলটি আইন হিসেবে পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, বর্তমান যুগে মাদকের সিন্ডিকেটগুলো ডার্ক ওয়েব ও বিভিন্ন অননুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই আধুনিক অপরাধ রুখতেই রাষ্ট্রকে এই কঠোর ডিজিটাল সাজার পথ বেছে নিতে হয়েছে।

নতুন সংশোধিত আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ও কঠোর সাজার পরিধি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক মামলার জট কমাতে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল বা আদালত গঠন করা হবে, যা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দ্রুত বিচার কার্য সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবে।

  • ডিজিটাল অপরাধের আওতা: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ডার্ক ওয়েব বা যেকোনো অনলাইন কুরিয়ার ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকের অর্ডার, লেনদেন ও সরবরাহ করা হলে তা এই আইনের অধীনে সরাসরি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • সর্বোচ্চ সাজার বিধান: অপরাধের তীব্রতা ও মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবনসহ যেকোনো মেয়াদের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
  • আর্থিক জরিমানা: কারাদণ্ডের পাশাপাশি অপরাধীকে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডে রূপান্তর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের পর সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, এই আইনের মাধ্যমে কেবল সাধারণ বহনকারী নয়, বরং পর্দার আড়ালে থেকে যারা ডিজিটাল ডিভাইস ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে মাদকের কোটি কোটি টাকার অর্থায়ন করছে, সেই গডফাদারদের সরাসরি আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে সারা দেশে কার্যকর করা হবে বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ