মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির জান্তা বাহিনীর নতুন করে ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলা শুরু হওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে আবারও ব্যাপক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইনের মংডু শহরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ করেছে। এসব হামলায় আরাকান আর্মির বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে প্রাণভয়ে আতঙ্কিত কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। তবে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা ঢল যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নাফ নদসহ সমগ্র মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিমান হামলার তীব্রতায় কাঁপল টেকনাফ সীমান্ত, বাস্তুচ্যুত হাজারো রোহিঙ্গা
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্তবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্য পুনরুদ্ধারে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার মংডু শহরে আরাকান আর্মির ঘাঁটি লক্ষ্য করে দিনভর ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওপারের ধাক্কায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের এবং আলীখালী ক্যাম্পের ইদ্রিস মিয়া জানান, জান্তা বাহিনীর বিমান হামলার পাশাপাশি বর্তমানে স্থলপথে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তুমুল ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। বহুমুখী এই যুদ্ধের কারণে মংডুর পরিস্থিতি এখন অবরুদ্ধ এবং উত্তপ্ত। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত ও নদীর কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরও একই ধরণের সংঘাতের জেরে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল।
বিজিবির কঠোর নজরদারি ও বিশেষ নৌটহল
রাখাইনের সংঘাতের জেরে এপারে উখিয়ার পালংখালী ও টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে রোহিঙ্গা ঢলের প্রবল শঙ্কা দেখা দিলেও বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সীমান্ত সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ওপারে চলমান সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশি সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী, জাদিমোড়া এবং শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে বিশেষ টহল এবং নাফ নদে ২৪ ঘণ্টা স্পিডবোটের মাধ্যমে নৌটহল জোরদার করা হয়েছে।


















