সৌদি আরবে বসবাসরত ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ বা বিশেষায়িত আকামাধারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে. নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য এখন থেকে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে একটি পৃথক ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতিপত্র) নিতে হবে. এই অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে সরকারের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’-এর মাধ্যমে.
ওয়ার্ক পারমিট ফি ও বিভিন্ন সেবার নিয়মাবলী
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ডিজিটাল লেবার প্ল্যাটফর্ম কিওয়া এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে:
- পারমিট ফি: বিশেষ ওয়ার্ক পারমিট পেতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারীদের ১০০ সৌদি রিয়াল ফি পরিশোধ করতে হবে.
- অন্যান্য সেবার ফি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগপত্র এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে. এসব সেবার ফি ক্রেডিট বা ডেবিট ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর অথবা কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে.
- ‘তামহির’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: সৌদি আরবের বহুল পরিচিত ‘তামহির’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রশিক্ষণার্থীদের চুক্তি এখন থেকে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে নথিভুক্ত করা যাবে.
- সৌদিকরণ নীতিতে প্রভাব: প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এসব প্রশিক্ষণ চুক্তি সৌদিকরণ নীতি বা কর্মসংস্থান কোটার আওতায় গণ্য হবে না. ফলে এটি প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক কর্মচুক্তি নথিভুক্তকরণের শর্ত পূরণ করবে না.
পদত্যাগ ও নোটিশ পিরিয়ডে নতুন নির্দেশনা
কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়ম নির্ধারণ করেছে কিওয়া:
- পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার: কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন. তবে এই সময়ের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠান পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে পারবে না কিংবা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখতে পারবে না.
- নোটিশ পিরিয়ড নির্ধারণ: চাকরি ছাড়ার আগে নোটিশ পিরিয়ড কতদিন হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত কর্মচুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে. ফলে কর্মীভেদে এ সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে.
ভিসার তথ্য সংশোধনে কড়াকড়ি
ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া কঠোর অবস্থান জানিয়েছে. একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর কোনোভাবেই পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না. আবেদনকালে ভুল তথ্য প্রদান করা হলে বিদ্যমান ভিসাটি সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে এবং এরপর সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে.



















