ঢাকার পল্লবীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার বাসার কাছেই তিন গলি দূরের একটি ভবন থেকে ইব্রাহিম নামের পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে. শিশুটির আশপাশে শেষবার বাড়ির মালিকের ছেলেকে দেখা গেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করলেও পুলিশ বলছে, এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তাদের হাতে আসেনি. নিখোঁজ শিশু ইব্রাহিমের বাবা পেশায় একজন ফুসকা বিক্রেতা এবং তার তিন সন্তানের মধ্যে ইব্রাহিম সবার ছোট. এই চাঞ্চল্যকর অন্তর্ধানের ঘটনায় গত শনিবার (৬ জুন) পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে.
সিসিটিভি ফুটেজ ও রহস্যজনক চিত্কার
নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনেই খেলছিল ইব্রাহিম. ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একটি রহস্যময় ও লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে:
- ফুটেজের চিত্র: সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ঠিক ৭টা ২১ মিনিটে ইব্রাহিমকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়. তবে সে একা ছিল না, তার ঠিক পেছনে পেছনে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়.
- রহস্যজনক আওয়াজ ও প্রস্থান: ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবন থেকে ইব্রাহিমের একটি তীব্র চিত্কার শোনা যায়. এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়. কিন্তু এরপর থেকে ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি.
জানা গেছে, যে ভবন থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে সেটির ছাদে সাধারণ ভাড়াটেদের যেতে দেওয়া হয় না এবং ঘটনার সময় ছাদটি যথারীতি তালাবদ্ধ ছিল. ছাদে যাওয়ার একমাত্র চাবিটি বাড়ির মালিকের কাছেই সংরক্ষিত থাকে. ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্য থেকে শিশুটি কীভাবে উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে এলাকায় এক বড় ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে.
জুয়া ও মাদকাসক্তদের দিকে পরিবারের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এই পল্লবী এলাকায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে. এলাকাবাসীর সাথে তাদের কখনো কোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি. তবে সন্তানের নিখোঁজের পেছনে তারা বাড়ির মালিকের সন্তানদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন. তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে চরম মাদকাসক্ত এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত. জুয়া খেলা এবং মাদকের মোটা অঙ্কের টাকা জোগাড় করতেই তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পরিবারের জোরালো সন্দেহ. ইব্রাহিমের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই. বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন. আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন.”
পুলিশের অবস্থান ও তদন্তের অগ্রগতি
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো মামলাটি তদন্ত করছে. তবে ঘটনার প্রথম দিকে পরিবারটি তাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেনি. অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারেনি, তবে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে.



















