শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান. আজ সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন. পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, যার ফলে দাপ্তরিক ও নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম সুচারুভাবে পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছিল. বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি স্বেচ্ছায় এই পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন.
৬৩ বছর বয়সী প্রবীণ এই রাজনীতিক দেশের সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন. উক্ত নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েন. বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী দীপেন দেওয়ান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রথমবারেই মন্ত্রিসভায় স্থান পান. তাঁর পরিবারেও দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে; তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন.
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে দীপেন দেওয়ান বিচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন. ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের মর্যাদাপূর্ণ চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন. এরপর ২০১০ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপিতে সহ-ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন. তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী দায়িত্ব কাকে দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি.


















