জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আগের আমলের মতো এই সরকারের মধ্যেও এখন নতুন করে এস আলম এবং সালমান এফ রহমান হওয়ার এক নোংরা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীতে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকে বিশাল অঙ্কের ঋণ দিয়ে সেই টাকা বিদেশে পাচার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল; জনগণের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকারে এই সংস্কৃতির অবসান ঘটবে, কিন্তু বর্তমান সরকারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তারা পুরোনো পথেই হাঁটছে। তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, প্রথম সংসদ অধিবেশনে সরকার ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটে’র মতো রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা না করায় দেশ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা থেকে আরও দুই ধাপ পিছিয়ে গেছে। দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আসা অসম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন এবং দেশে অর্থ আনার ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার তার সিকিভাগও পারছে না, এমনকি তারা কোনো দেশ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পর্যন্ত পায়নি এবং আইএমএফের ঋণও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্ষুদ্র ও সৎ ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের ঋণ না দিয়ে রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে বড় বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীকে খেলাপি ঋণ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ৫ হাজার টাকা ঋণের জন্য কৃষকের কোমরে দড়ি বাঁধা হলেও বড় লুটেরারা পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক সংকট এককভাবে কোনো সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের স্বার্থে সরকারকে সব ধরনের গঠনমূলক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।



















