২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের স্মৃতি এবং ছবি বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ রবিবার (১৯ জুলাই, ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথির ভেতরের পাতার জলছাপ (Watermark) আমূল পরিবর্তন করে সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম তিন প্রতীক আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি যুক্ত করা হচ্ছে। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে এই বীর তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্থায়ীভাবে ঠাঁই পাচ্ছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন স্বাধীন চেতনার বার্তা বহন করবে।
অনুমোদিত নতুন প্রাঙ্গণ ও নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সুদীর্ঘ ইতিহাসের নানা অনন্য অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মতো বহু প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ও রূপসী বাংলার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ পৃথিবীর দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও পাহাড়ি এলাকা নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখানেই শেষ নয়, জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও জাতীয় ফল কাঁঠালের পাশাপাশি এবার পাসপোর্টের পাতায় স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিশ্ববিখ্যাত কালজয়ী চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই বিশেষ প্রজ্ঞাপনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। পাসপোর্টের প্রধান ডাটা পেজে (Data Page) আগের মতোই “ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ” (Valid for all countries of the world except Israel) থাকার বিষয়টি শতভাগ বহাল থাকছে, অর্থাৎ পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জাতীয় সিদ্ধান্ত ও পাসপোর্টের নতুন নকশা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে (ডিপিআই) সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।



















