চলমান ইরান সংঘাত ও সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার ও উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ খুইয়ে বড় ধরনের কৌশলগত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের বহরে থাকা মোট রিপার ড্রোনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশই) হারিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, বিগত কয়েক মাসে ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর বাউন্সি হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর দুই ডজনেরও বেশি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস বা ভূপাতিত হয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর, থার্মাল ক্যামেরা এবং নজরদারি প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একেকটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা হেলফায়ার মিসাইল এবং জেডিএএম (JDAM)-এর মতো দূরনিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁত নিশানার ভারী বোমা বহনে সক্ষম। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, অভিযানে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামতের অযোগ্য বা চিরতরে বাতিল করা ড্রোনের সংখ্যা যুক্ত করলে এই সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মার্কিন ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ৩০-এ পৌঁছাতে পারে, যার ফলে শুধুমাত্র এই ড্রোন ধ্বংসের ঘটনাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নিট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে।



















