যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের ‘কোনো আস্থা নেই’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরান কেবল তখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ‘সিরিয়াস’ বা আন্তরিক হয়। ব্রিকস (BRICS) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে ভারত সফরে থাকা আরাগচি নতুন দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই দেশের চলমান সংকট ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
পরস্পরবিরোধী বার্তা ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা সংকট: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ ওয়াশিংটনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়নি, তবে এটি বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে ইরান এখনও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা আবারও লড়াইয়ে ফিরে যেতেও পুরোপুরি প্রস্তুত। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের সাহায্য করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন যেকোনো দেশের আন্তরিক প্রচেষ্টাকেই ইরান সাধুবাদ জানায়।
চলমান যুদ্ধ ও স্থায়ী চুক্তির অন্তরায়: গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, গত মাসে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। তবে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষই তীব্র হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইরান এবং আমেরিকা একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাটি স্থগিত রয়েছে। গত ১৩ মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উপর্যুপরি বিমান হামলা তেহরানের সঙ্গে আগের দুই দফার আলোচনাকে ভেস্তে দিয়েছিল। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আটকে থাকার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
সূত্র: রয়টার্স



















