বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ১/১১-এর সময়কালীন এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ২০০৮ সালে দেশত্যাগে বাধ্য করা পর্যন্ত তাঁর ওপর যে অমানবিক ও বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার বিশদ বিবরণ এখন প্রকাশ্যে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই শুধুমাত্র উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাঁকে আটক করে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল।
অমানুষিক নির্যাতন ও পঙ্গুত্ব বরণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের সরাসরি নির্দেশে তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। এমনকি হাত ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল তাঁকে। এক পর্যায়ে সিলিং থেকে পড়ে গিয়ে তিনি কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান, যার ফলে তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিক সক্ষমতা হারান এবং তাঁকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কাটাতে হয়। জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে নানির জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রত্যক্ষ করেন যে, তারেক রহমান খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। এই নির্যাতনের পেছনে ডিজিএফআই-এর তৎকালীন সাতজন পদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।
রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান সংস্কার তারেক রহমানকে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর একটি অঙ্গীকারনামায় সই করিয়ে বলপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, যার ফলে তাঁকে ১৭ বছর প্রবাসে কাটাতে হয়। আজ যখন তিনি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন, তখন এই অতীত নির্যাতনের তথ্যগুলো বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় দলিল হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই বড় লক্ষ্য। আজই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ব্যস্ত এবং অর্থমন্ত্রী সমরখন্দে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছেন—এই সামগ্রিক অগ্রযাত্রার মাঝে অতীতের এই কালো অধ্যায়গুলো স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেন দেশে একটি সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা অপরিহার্য।


















