ইরানের চাবাহার বন্দর ঘিরে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে যেতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রেখে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ইরান-এর ওমান উপসাগর তীরে অবস্থিত এই বন্দর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এতে শাহিদ কালান্তারি ও শাহিদ বেহেশতি—দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যার মধ্যে দ্বিতীয়টির উন্নয়নে ভারত প্রায় ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
পাকিস্তানের কারণে স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সরাসরি প্রবেশে বাধা থাকায়, চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচিত। এখান থেকে সড়ক ও রেলপথে ওই অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব।
এদিকে গোয়াদর বন্দর—যা চীন-এর সহায়তায় পাকিস্তান নির্মাণ করেছে—ভারতের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাল্টা ভারসাম্য হিসেবেই চাবাহার প্রকল্পকে গুরুত্ব দেয় দিল্লি।
চাবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর (INSTC)-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ জোরদার করে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু সময় প্রকল্পে গতি এলেও ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অগ্রগতি থেমে যায়। পরবর্তীতে সীমিত ছাড় দেওয়া হলেও ২০২৬ সালে তা শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি আবার সংকটে পড়ে।
বর্তমানে ভারত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় ভারতের সামনে বিকল্প খুবই সীমিত। কেউ কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভারত সাময়িকভাবে প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াতে বা অংশীদারিত্ব কমাতে বাধ্য হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চাবাহার বন্দর এখন ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরীক্ষা—যেখানে ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতি একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















