ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোর জট খুলতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রায় আড়াই মাস সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরে আটকা থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ বুধবার ভোরে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নোঙর তুলেছে।
বিডিনিউজ ও সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জাহাজের বর্তমান অবস্থান ও গতিপথ
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এই জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
- দূরত্ব: জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৪০০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে।
- গতিবেগ: জাহাজটি ঘণ্টায় গড়ে ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে এগোচ্ছে।
- সম্ভাব্য সময়: সব ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের দিকে জাহাজটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।
২. নাবিক ও কার্গো পরিস্থিতি
জাহাজটিতে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
- পণ্য: জাহাজটিতে বর্তমানে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে।
- প্রস্তুতি: দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও রসদ ইতিমধ্যেই রাস আল খাইর বন্দর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
- গন্তব্য: হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দর।
৩. আগের প্রতিবন্ধকতা ও বর্তমান পরিবেশ
এর আগে একবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে যাত্রার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তার খাতিরে আমিরাত কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতির পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।
- জাহাজের জট: যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই হরমুজের ভেতরে ও বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েক হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের যাত্রা শুরু করেছে।
৪. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং পরবর্তীতে ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সমঝোতার ফলেই ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মতো শত শত জাহাজ এখন নিরাপদে সমুদ্রপথ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।
দীর্ঘ আড়াই মাস পর বাংলাদেশি নাবিকদের স্বদেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং জাহাজটির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত হওয়া বিএসসি ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির খবর।



















