বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে চিরাচরিত শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এখন থেকে এই শোভাযাত্রা ‘আনন্দ’ বা ‘মঙ্গল’ কোনো নামেই নয়, বরং সরাসরি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।
সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো) নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। সভার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিভাজন নয়, ঐক্যের ডাক
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “শোভাযাত্রার নাম নিয়ে আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে, তার কোনো মানে হয় না। আমরা কোনো বিভাজন চাই না; বৈচিত্র্যের মাধ্যমেই আমরা ঐক্য চাই।” সকল ধর্মের ও মতের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই নিরপেক্ষ নাম বেছে নেওয়া হয়েছে।
২. স্থায়ী নামকরণ
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবারের পহেলা বৈশাখ থেকেই এই নতুন নাম কার্যকর হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখন থেকে প্রতিবছর এই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামই বহাল থাকবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের নামকেন্দ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাদানুবাদের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩. ইউনেস্কো স্বীকৃতি নিয়ে স্পষ্টীকরণ
পহেলা বৈশাখের এই শোভাযাত্রা ইউনেস্কো কর্তৃক ‘মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত। নাম পরিবর্তনের ফলে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে:
- স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ থাকবে: নামের সামান্য পরিবর্তনে ঐতিহ্যের মূল সারবস্তু বা ইউনেস্কোর সনদে কোনো সমস্যা হবে না।
- মূল চেতনা অপরিবর্তিত: শোভাযাত্রার যে শৈল্পিক কাঠামো, মুখোশ, এবং লোকজ মোটিফ—তা আগের মতোই বজায় থাকবে।
৪. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব উদযাপন
সভায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ (বৈসাবি) উদযাপনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকার পাহাড় ও সমতলের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসবগুলো জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আর্থিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সারাদেশে এই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে। তবে চলমান তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শোভাযাত্রার সময়সীমা বা রুট সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।



















