হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ও মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোতেই জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং মেজর জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা প্রথম সংগঠিত বৈঠকে মিলিত হন।
- রণকৌশল: এই বৈঠকেই মুক্তিযুদ্ধকে পরিচালনা করার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- স্বাধীনতার সূতিকাগার: মির্জা ফখরুল এই স্থানটিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে, অতীতে আওয়ামী লীগের বর্ণনায় এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
২. জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় দিশেহারা জাতিকে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠই উজ্জীবিত করেছিল।
- তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, আর জিয়াউর রহমান নিজের পরিবার রেখে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চরম ঝুঁকি মোকাবিলা করেছেন এবং পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
৩. সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান
‘বিএনপি সংস্কার চায় না’—এমন প্রচারণাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন:
- জিয়াউর রহমানই দেশে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করে সংস্কারের সূচনা করেছিলেন।
- বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন।
- বর্তমানে আলোচিত সংস্কারের বিষয়গুলো বিএনপির পূর্বঘোষিত ৩১ দফায় অনেক আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৪. বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। সভার শেষে অতিথিরা তেলিয়াপাড়া স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্থানীয়ভাবে পালিত এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং তেলিয়াপাড়া বাংলোটি সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের। আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই দাবিগুলো পুনরায় জোরালো হয়ে উঠেছে।



















